আল্লাহভীরুদেরপ্রতি বিশেষ অনুগ্ৰহ
আল্লাহভীরুদের প্রতি বিশেষ অনুগ্ৰহ
ইবাদতগুজার
আল্লাহভীরু বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক অনুগ্রহ ও পুরস্কার রয়েছে। তন্মধ্যে
বিশেষ একটি অনুগ্রহের কথা তিনি হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ
করেছেন
:
وَعِزَّتِي وَجَلَالِي
لَا أَجْمَعُ
لِعَبْدِي أَبَدًا
أَمْنَيْنِ وَلَا
خَوَفَيْنِ؛ إِنْ
هُوَ أَمِنَنِي
فِي الدُّنْيَا؛
أَخَفْتُهُ يَوْمَ
أَجْمَعُ فِيهِ
عِبَادِي، وَإِنْ
هُوَ خَافَنِي
فِي الدُّنْيَا؛
أَمَّنْتُهُ يَوْمَ
أَجْمَعُ فِيهِ
عِبَادِي
‘আমার ইজ্জত
ও জালালের কসম, আমি কখনো আমার বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা ও দুটি ভীতি একত্রিত করব
না। যদি সে দুনিয়াতে আমার ব্যাপারে নির্ভয় থাকে, তাহলে আমি তাকে কিয়ামত দিবসে ভীত-সন্ত্রস্ত
করব। আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে, তাহলে আমি তাকে কিয়ামত দিবসে নিরাপত্তা দান
করব।
সাইয়িদুনা
আনাস (রা) বলেন, ‘একদা রাসুল
আমাদের
উদ্দেশে
এমন এক খুতবা দিলেন, ইতিপূর্বে এমন খুতবা আমি কোনোদিন শুনিনি। তিনি বললেন :
لَوْ تَعْلَمُونَ
مَا أَعْلَمُ
أَضْحِكْتُمْ قَلِيلًا،
وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا
“আমি যা
জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।”
এ কথা শুনে
সাহাবিগণ মুখ ঢেকে নিলেন এবং গুনগুন করে কাঁদতে লাগলেন ।
দুনিয়াতে আল্লাহভীতির ফলাফল
যারা আল্লাহকে
ভয় করে, দুনিয়াতেও তারা অনেক পুরস্কারে ভূষিত হবে।
আমির বিন
কাইস (রহ) বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ সকল বস্তুর মনে তার প্রতি ভয় ঢুকিয়ে
দেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে না, আল্লাহ তার মনে সকল বস্তুর ভয় ঢুকিয়ে দেন।’
৫. হিলইয়াতুল
আওলিয়া : ৬/৯৮ ।
৬. সহিহুল
বুখারি : ৪৬২১, সহিহু মুসলিম : ৯০১।
আপনি সমাজে
চোখ বুলিয়ে দেখুন না—আল্লাহভীরু বান্দারাই সমাজের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হন এবং সবাই
তাদের কথাই
মান্য করে। মানুষের মনে তাদের প্রতি ভয় ও সমীহ থাকে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর নাফরমানি
করে এবং তাঁর বিধিনিষেধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে,
তারা মানুষের দৃষ্টিতে অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়।
লজ্জা ও লাঞ্ছনার জালে তারা বন্দী হয়ে পড়ে।
এ ভয় সে ভয় নয়
কেউ কেউ
আল্লাহকে ভয় করার ভয়কে সাধারণ ভয়ের সাথে মিলিয়ে ফেলে । তারা মনে করে, হিংস্র প্রাণী
ও অত্যাচারীর প্রতি মানুষের মনে যে ভয় থাকে,
আল্লাহভীতির ভয়ও ঠিক তা-ই। তাদের ধারণা অবাস্তব।
যে ভয় সত্যিকারের মুমিনদের হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করে, তা হচ্ছে আল্লাহর শাস্তির ভয়
ও তাঁর অনুগ্রহ ও ক্ষমার আকাঙ্ক্ষা।
প্রকৃত আল্লাহভীরু হওয়ার জন্য এই ভয়ই থাকতে হবে
অন্তরে ।
উমর বিন
আব্দুল আজিজ (রহ) বলতেন, 'হে আল্লাহ, আপনি যদি জেনে থাকেন, আমি কিয়ামত দিবস ব্যতীত অন্য
কিছুকে ভয় পাই, তাহলে আমার সে ভয়কে গ্রহণ
করবেন না।”
৭. তারিখুল
খুলাফা : ২২৪ পৃ.
ইয়াজিদ বিন হাওশাবা বলেন, 'আমি হাসান ও উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ) -এর মতো ভীত কোনো মানুষ দেখিনি। তাদের ভয় দেখে মনে হয়,
জাহান্নাম
বুঝি শুধু এই দুজনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।
আব্দুর রহমান
বিন হারিস বিন হিশাম বলেন,
'আব্দুল্লাহ বিন হানজালা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাকে
দেখতে গেলাম। সেখানে তার সামনে এক লোক তিলাওয়াত করলেন :
لَهُم مِّن جَهَنَّمَ
مِهَادٌۭ وَمِن فَوْقِهِمْ غَوَاشٍۢ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلظَّـٰلِمِينَ ٤١
“তাদের জন্য হবে জাহান্নামের (আগুনের) শয্যা এবং তাদের উপরের আচ্ছাদনও হবে (আগুনের তৈরী) চাদর, এমনিভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।”৮
শুনে তিনি
এতটাই কাঁদলেন, আমার মনে হলো কাঁদতে কাঁদতে বুঝি তার প্রাণটাই বের হয়ে যাবে। অতঃপর
তিনি বললেন, “তারা জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরে উপনীত হবে।”
এই বলে তিনি দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে গেলেন । একজন
বললেন, “হে আবু আব্দুর রহমান, বসে যান।” তিনি বললেন, “জাহান্নামের স্মরণ আমাকে বসতে
দিচ্ছে না।
আমি জানি না, আমিও তাদের একজন হব কি না।”
৮. সুরা
আল-আরাফ ৭: ৪১।
এই যে ভয়
তাদের ছিল, এটাই প্রশংসিত ভয়। এ ভয় মানুষকে ইবাদত, আমল, দৃঢ়তা ও তাওবার দিকে ধাবিত
করে। এটিই প্রকৃত ভয় ।
সাইয়িদুনা
উমর বিন খাত্তাব (রহ) একবার হুজাইফা (রহ) -কে প্রশ্ন করেন, ‘তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি,
রাসুলুল্লাহ কি মুনাফিকের তালিকায় আমার নাম বলেছেন?
' হুজাইফা
বললেন, ‘না। আপনার পরে আর কারও ব্যাপারে আমি (নিফাক থেকে) পবিত্রতার ঘোষণা দেবো না
।
সুবহানাল্লাহ!
যিনি এই ভয় পাচ্ছেন, তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন, হক-বাতিলের পার্থক্য নিরূপণকারী,
দ্বিতীয়
খলিফা ও জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবির অন্যতম সাইয়িদুনা উমর বিন খাত্তাব।
তাঁর ভয়ের
মাত্রা এত বেশি ছিল যে, তিনি নিজের আংটির ওপর খোদাই করে লিখেছিলেন, 'হে উমর, মৃত্যুই
উপদেশের
জন্য যথেষ্ট। ১০
,,
৯. আল-জাওয়াবুল
কাফি : ৭৯ পৃ. 1 ১০. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৭/১৪৭
-------------------------------------------------------------------------------------------------

Comments
Post a Comment