Skip to main content

 রমাদান সিরিজ

পর্বঃ ০১ শুরু হয়েছে রজব মাস। এটি হিজরী ক্যালেন্ডারের সপ্তম মাস এবং কুরআনে উল্লেখিত পবিত্র চারটি মাসের মধ্যে একটি। বলা হয়, এ মাসেই ইসরা এবং মিরাজের অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। তাছাড়া রজব মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রামাদান প্রায় দোরগোড়ায় এবং আমাদের সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে- আত্মিক, মানসিক এবং শারীরিকভাবে। এজন্যই ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর চাচা ইমাম আবু বকর আল-ওয়াররাক আল-বালখি (রহঃ) বলেছেন: 'রজব মাস হলো রোপণের মাস, শাবান মাস সেচ দেওয়ার মাস এবং রামাদান হলো ফসল কাটার মাস।' তাহলে কিভাবে আমরা এই মাসটিকে রমজানের প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করতে পারি? চলুন দেখে নেই। 🌱 আত্ম-শুদ্ধি কিছু সময় একা কাটান এবং কীভাবে আপনি নিজের ঈমানের উন্নতি করতে পারেন তা চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন- 'আমি আজ মারা গেলে আল্লাহ ও তাঁর রসূল কি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন?' 'আমি কি ইবাদাত সহ আমার সকল কথা ও কাজে আন্তরিক?' 'আমি কি পরকালের প্রস্তুতির জন্য আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি?' 🌱 ক্ষমা প্রার্থনা এবং দুআ আমরা সকলেই ভুল করি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার এটাই সঠিক সময়। তিনি পরম ক্ষমাশীল ও করুণাময়। একই সাথে অন্য যাদের সাথে আপনি অন্যায় করেছেন তাদেরকেও ক্ষমা করতে বলুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সকল আদম সন্তানই ক্রমাগত ভুল করে, তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যারা অবিরত অনুতপ্ত হয়।" (তিরমিযী) দুয়ার লিস্ট রামাদান আসার আগেই তৈরি করা জরুরি। রজব থেকে শুরু করলে খুব ধীরে সুস্থে সুন্দর একটি লিস্ট করে ফেলা সম্ভব। আর আল্লাহর কাছে রামাদান পাওয়ার এবং পেয়ে তা কাজে লাগানোর তৌফিক চাইতে হবে। 🌱 বাড়তি সিয়াম নিজেকে রামাদানের রুটিনে পরিণত করতে, বেশি বেশি সিয়াম রাখা শুরু করুন। গত রামাদান আপনার মিস করা সিয়ামগুলো পূরণ করুন। এছাড়াও সোমবার এবং বৃহস্পতিবার সুন্নাহ মোতাবেক সিয়াম রাখুন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সবচেয়ে বেশি সিয়াম রাখতেন সোমবার ও বৃহস্পতিবার। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে মানুষের আমল পেশ করা হয়। আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে ক্ষমা করে দেন যারা একে অপরকে পরিত্যাগ করে তাদের ছাড়া।" (হাসান) 🌱 বাড়তি সালাত ও যিকর ফরজ সালাত এর পাশাপাশি সুন্নাহ ও নফল সালাত গুলোতে আমরা আরো যত্নশীল হতে পারি। তাহাজ্জুদ এ উঠার জন্য চেষ্টা করতে পারি, সেজন্য কাজ গুছিয়ে জলদি ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। অন্তত ঘুমের আগে কিছুটা নফল সালাত পড়ে নিতে পারি। সম্ভব হলে দুপুরে দুহার সালাত পড়ে নেয়া উচিত। সালাত শেষে জিকিরের অভ্যাস করা উচিত। এর অনেক ফযীলত রয়েছে। তাছাড়া ঘরের কাজ করতে করতে, চলতে ফিরতে জিকির করা যায়। 🌱 সাদাকাহ আমরা যদি একে অপরকে সাহায্য করি তবেই এই পৃথিবী একটি ভাল জায়গা হতে পারে। বিনিময়ে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। রাসূল মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ তার বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ তার সাহায্যকারী অন্যের সাহায্যে থাকে।" (মুসলিম) আল্লাহ বলেছেন: "কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, অতঃপর তিনি তা তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহৎ পুরস্কার?" (কুরআন ৫৭:৩১) 🌱 প্রতিদিন কুরআন পড়া অনেকে রামাদান এ পুরো কুরআন পড়ার নিয়ত করেন। তারা যদি রজব থেকে শুরু করেন তাহলে খুব সহজেই তিন মাসে পুরো অর্থ সহ কুরআন পড়ে ফেলতে পারবেন। শুদ্ধ ভাবে কুরআন তিলাওয়াত চর্চা ও নতুন কিছু সূরা মুখস্ত করতে পারি আমরা। 🌱 আরো যত সুন্নাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আরও জানুন এবং তাঁকে অনুসরণ করুন। “বলুন, [হে মুহাম্মদ], যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, [তাহলে] আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।" (কুরআন ৩:৩৩) নিয়মিত করার মত আরো হাজার সুন্নাহ রয়েছে, যেমন, অযুর সময় মিসওয়াক করা, ফজরের পর জেগে থাকা, রাতে দুআ পড়ে শোয়া, খেজুর খাওয়া, বেশি বেশি সালাম দেয়া, আত্মীয়দের খবর নেয়া, দাওয়াহ দেয়া ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, বড় বড় আমলের এর পাশপাশি ছোট ছোট ভালো কাজ গুলোও গুরুত্তপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে, ছোট্ট একটা হাসি কিংবা একটি ভালো পোস্ট শেয়ার করাও আমলনামায় যোগ করতে পারে অনেক সাওয়াব, যদি তিনি চান।

Comments

Popular posts from this blog

  ইসলাম কাকে বলে? ইসলাম একটি আরবী শব্দ। শব্দটির অভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আত্মসমর্পন করা, আনুগত্য করা, শান্তির পথে চলা ও মুসলমান হওয়া। ইসলামের পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো - আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও তার নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পন করা। বিনা দ্বিধায় আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তার দেওয়া বিধান অনুসারে জীবন যাপন করা নামই ইসলাম। যিনি ইসলামের বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করবেন, তিনি মুসলিম বা মুসলমান। ইসলাম ধর্ম আল্লাহপাকের মনোনীত একমাত্র দীন । একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আলোকে একজন মুসলাম জীবন যাপন করতে সক্ষম। ইসলামে রয়েছে সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থা। এমনকি আরো রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন, ন্যায়নীতি ও সুবিচারর ভিত্তিক শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ গতিশীল সুন্দর সামজ গঠন ও সংরক্ষণে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দীন।’ (সূরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৯) অন্য আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চায়; তা কখনো কবুল করা হবে না।’ (...
  রমজান মাসের ফজিলত ও মর্যাদা রমজান মাস। আরবি মাসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। দুনিয়ার কোনো সম্পদের সঙ্গে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রমজানের আগমনে বিশ্বনবি অনেক আনন্দিত হতেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্যে এভাবে ঘোষণা দিতেন বিশ্বনবি সাল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- أتاكم رمضان شهر مبارك ‘তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’ তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের ঘোষণা দিয়ে এ মাসের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করতেন। আর তা ছিল এমন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ (বাধ্যতামূলক) করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের (নবি-রাসুলের উম্মতের) ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) রমজান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা ১. ফরজ রোজা পালন ২. কুরআন নাজিল ৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার মাস ৪. জাহান্নামের দরজা বন্ধ ৫. শয়তানকে শৃঙ্খাবদ্ধ করা ৬. লাইলাতুল কদর পাওয়া ৭. দোয়া কবুল হওয়া ৮. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ৯. ক্ষমা পাওয়া ১০. সৎ কাজের প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যাওয়া ১১. হজের সাওয়াব পাওয়া ১২. রোজাদারে...
  প্রেমরোগ সিরিজ (পর্বঃ ২) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ) যখন বিয়ে করতে মনস্থির করেন তখন তার চাচিকে বলেন, ওই শায়েখের বাড়িতে দু'জন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে, আপনি তাদের দেখে আসুন এবং তাদের সম্পর্কে আমাকে জানান। চাচি মেয়ে দুটিকে দেখে আসার পর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছে তাদের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। তিনি বাড়ির ছোট মেয়ের ব্যপারে অনেক প্রশংসা করলেন। ফর্সা চেহারা, তার চোখ ও চুলের সৌন্দর্য,দীর্ঘতা বর্ণনায় পঞ্চমুখ হলেন। ইমাম আহমদ তখন তাকে বড় মেয়েটির ব্যাপারে বলতে বললেন। বড় মেয়েটির ব্যাপারে তিনি অনেকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথা বললেন। অবিন্যস্ত চুল, খর্বকায় উচ্চতা, শ্যাম বর্ণ এবং একটি চোখে ক্রটি থাকার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর ইমাম আহমদ তাকে দুজনের দ্বীনদারির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে চাচি বললেন, বড় মেয়েটি দীনদারির দিক থেকে ছোট মেয়ের তুলনার বেশ এগিয়ে। একথা শুনে ইমাম আহমদ বললেন, তাহলে আমি বড় মেয়েটিকেই বিয়ে করব। বিয়ের ত্রিশ বছর কেটে যাওয়ার পর ইমাম আহমদের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলেন। দাফনের সময় ইমাম আহমদ বললেন, "ইয়া উম্মে আবদুল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমার কবর শান্তিময় রাখুন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমা...