Skip to main content

 

ট্রান্সজেন্ডার; এক অভিশপ্ত সম্প্রদায়

  

|| মুহাম্মদ আব্দুুল্লাহ খান ||
আদিকাল থেকে পৃথিবীজুড়ে তিন ধরনের মানুষের বসবাস।নারী,পুরুষ ও হিজড়া।সবাই ই আল্লহর সৃষ্টি।আল্লাহ যাকে যেভাবে উত্তম মনে করেছেন তাকে সেভাবে সৃষ্টি করেছেন।মহান আল্লাহ তা'য়ালা কোরআনে কারীমে ইরশাদ করেন:'আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে।'(সুরা:ত্বীন আয়াত:৪)
তবে পৃথিবী ব্যাপী 'ট্রান্সজেন্ডার' নামে নতুন এক লিঙ্গের মানুষের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।যদিও তারা নিজেদেরকে চতুর্থ লিঙ্গ তথা 'ট্রান্সজেন্ডার' নামে পরিচয় দিচ্ছে কিন্তু কোরআনের ভাষায় মূলত তারা শয়তানের কাজ করে নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।কোরআনে কারীমে আল্লাহ বলেন 'আর অবশ্যই আমি তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে। আর অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে আর আল্লাহর পরিবর্তে কেউ শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করলে সে স্পষ্টত ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়'।(সুরা:নিসা আয়াত:১১৯)

ট্রান্সজেন্ডার বলতে কি বুঝায়:
রূপান্তরিত লিঙ্গ-এর ব্যক্তিবর্গ (ইংরেজি: Transgender ট্রান্সজেন্ডার) হল সেসব ব্যক্তি যাদের মানসিক লিঙ্গবোধ জন্মগত লিঙ্গ চিহ্ন হতে ভিন্ন। রূপান্তরকামী লিঙ্গের ব্যাক্তিবর্গ যদি তাদের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে ডাক্তারি সাহায্য কামনা করে তাদেরকে রূপান্তরকামী(ট্রান্সজেন্ডার)নামে ডাকা হয়।সূত্রঃকিউরা।

ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি রাসুলের অভিশাপ:
পুরুষ কখনো নারীর বেশ ধারণ করলে বা নারী কখনো পুরুষের বেশ ধারণ করলে রাসুল (সা.) উভয়ের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন।হাদিসের মধ্যে ইরশাদ হচ্ছে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন 'রাসুল (সা.)বলেছেন 'আল্লাহ্ তা’আলা সেই সব মহিলাদের উপর অভিশাপ করেন,যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং সে সকল পুরুষদের উপর অভিশাপ করেন, যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে' (মিশকাত:হাদিস:৪৪২৯)
তবে হ্যাঁ!কোন ব্যাক্তি যদি রোগ থেকে মুক্তির উদ্যেশ্যে দাগ (বিকৃতি)দেয় তাহলে অভিসম্পাতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।হাদিসের মধ্যে ইরশাদ হচ্ছে হারিস (রা.) বলেন 'রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন সুদখোর, সুদদাতা, সুদের স্বাক্ষী, সুদের লেখক এবং যে শরীরে দাগ (বিকৃতি)দেয়, যাকে দাগ(বিকৃতি)দেওয়া হয়। এক ব্যক্তি বলল, রোগের জন্য ছাড়া? তিনি বলেন, হ্যাঁ'।(নাসায়ী শরীফ: হাদিসঃ৫১০৪)

ট্রান্সজেন্ডার জাহান্নামী:
'ট্রান্সজেন্ডার' ব্যাক্তি সম্পর্কে হাদিসের ভাষায়  কঠোরভাবে বলা হচ্ছে যে,সে জান্নাতে যেতে পারবে না।আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার (রা.)থেকে বর্ণিত ইবনে ওমর (রা.)বলেন 'রাসুল (সা.)বলেন 'তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যেতে পারবে না-
(১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।
(২) বাড়ীতে বেহায়াপনার সুযোগ প্রদানকারী।
(৩) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী'(নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষ)(নাসাঈ শরীফ)।

ট্রান্সজেন্ডারের জন্য শরয়ী পদক্ষেপ:
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত 'কোন একদিন এক হিজড়াকে নবি(সা.)এর নিকট আনা হলো। তার হাত-পা মেহেদী দ্বারা রাঙ্গানো ছিল। রাসুল (সা.)বললেন:'এর এ অবস্থা কেনো?' বলা হল "হে আল্লাহ্‌র রাসুল! সে নারীর বেশ ধরেছে'। রাসুল (সা.)তাকে আন-নকী নামক স্থানে নির্বাসিত করার নির্দেশ দিলেন'।(সুনানে আবু দাউদ:হাদিস:৪৯২৮)
উক্ত হাদিসে রাসুল (সা.)হিজড়ার ব্যাপারে এত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন তাহলে ভাবা উচিৎ যারা পুরুষ হয়েও নারীর বা নারী হয়েও পুরুষের বেশ ধরে  তাদের ব্যাপারে শরয়ী অবস্থান কেমন!
'ট্রান্সজেন্ডার'বলতে গেলে এক ধরনের সমকামিতা।আর এ সমকামিতার জন্য আল্লাহ তা'য়ালা হযরত লূত (আ.)এর কওমকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

সমকামিতার শস্তি:
সমকামী ব্যাক্তির প্রতি আল্লাহ তা'য়ালা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।হাদিসের মধ্যে ইরশাদ হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা.)থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল (সা.)বলেন 'আল্লাহ তা‘আলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না যে সমকামে লিপ্ত হয় অথবা কোনো মহিলার মলদ্বারে গমন করে'(সুনানে তিরমিযি:হাদিস:১১৬৫)
আবু বকর,আলী,আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর(রা.)এবং হিশাম ইবন আব্দুল মালিক (রহ.)সমকামীদেরকে শাস্তি স্বরূপ আগুনে পুড়িয়ে হত্যাও করেছেন।
'ট্রান্সজেন্ডার'এটি এক ধরনের রোগ।এ রোগ যদি মানসিকগত কারনে হয় তাহলে তাদেরকে মানসিক ডাক্তার দেখানো উচিৎ আর যদি তাদের এ চাহিদা হরমোনগত সমস্যা থেকে হয় তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা করানো উচিৎ।
আল্লাহ সবাইকে এই ঘৃণ্য কাজ থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন।


লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

Comments

Popular posts from this blog

  ইসলাম কাকে বলে? ইসলাম একটি আরবী শব্দ। শব্দটির অভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আত্মসমর্পন করা, আনুগত্য করা, শান্তির পথে চলা ও মুসলমান হওয়া। ইসলামের পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো - আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও তার নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পন করা। বিনা দ্বিধায় আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তার দেওয়া বিধান অনুসারে জীবন যাপন করা নামই ইসলাম। যিনি ইসলামের বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করবেন, তিনি মুসলিম বা মুসলমান। ইসলাম ধর্ম আল্লাহপাকের মনোনীত একমাত্র দীন । একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আলোকে একজন মুসলাম জীবন যাপন করতে সক্ষম। ইসলামে রয়েছে সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থা। এমনকি আরো রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন, ন্যায়নীতি ও সুবিচারর ভিত্তিক শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ গতিশীল সুন্দর সামজ গঠন ও সংরক্ষণে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দীন।’ (সূরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৯) অন্য আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চায়; তা কখনো কবুল করা হবে না।’ (...
  রমজান মাসের ফজিলত ও মর্যাদা রমজান মাস। আরবি মাসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। দুনিয়ার কোনো সম্পদের সঙ্গে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রমজানের আগমনে বিশ্বনবি অনেক আনন্দিত হতেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্যে এভাবে ঘোষণা দিতেন বিশ্বনবি সাল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- أتاكم رمضان شهر مبارك ‘তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’ তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের ঘোষণা দিয়ে এ মাসের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করতেন। আর তা ছিল এমন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ (বাধ্যতামূলক) করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের (নবি-রাসুলের উম্মতের) ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) রমজান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা ১. ফরজ রোজা পালন ২. কুরআন নাজিল ৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার মাস ৪. জাহান্নামের দরজা বন্ধ ৫. শয়তানকে শৃঙ্খাবদ্ধ করা ৬. লাইলাতুল কদর পাওয়া ৭. দোয়া কবুল হওয়া ৮. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ৯. ক্ষমা পাওয়া ১০. সৎ কাজের প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যাওয়া ১১. হজের সাওয়াব পাওয়া ১২. রোজাদারে...
  প্রেমরোগ সিরিজ (পর্বঃ ২) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ) যখন বিয়ে করতে মনস্থির করেন তখন তার চাচিকে বলেন, ওই শায়েখের বাড়িতে দু'জন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে, আপনি তাদের দেখে আসুন এবং তাদের সম্পর্কে আমাকে জানান। চাচি মেয়ে দুটিকে দেখে আসার পর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছে তাদের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। তিনি বাড়ির ছোট মেয়ের ব্যপারে অনেক প্রশংসা করলেন। ফর্সা চেহারা, তার চোখ ও চুলের সৌন্দর্য,দীর্ঘতা বর্ণনায় পঞ্চমুখ হলেন। ইমাম আহমদ তখন তাকে বড় মেয়েটির ব্যাপারে বলতে বললেন। বড় মেয়েটির ব্যাপারে তিনি অনেকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথা বললেন। অবিন্যস্ত চুল, খর্বকায় উচ্চতা, শ্যাম বর্ণ এবং একটি চোখে ক্রটি থাকার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর ইমাম আহমদ তাকে দুজনের দ্বীনদারির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে চাচি বললেন, বড় মেয়েটি দীনদারির দিক থেকে ছোট মেয়ের তুলনার বেশ এগিয়ে। একথা শুনে ইমাম আহমদ বললেন, তাহলে আমি বড় মেয়েটিকেই বিয়ে করব। বিয়ের ত্রিশ বছর কেটে যাওয়ার পর ইমাম আহমদের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলেন। দাফনের সময় ইমাম আহমদ বললেন, "ইয়া উম্মে আবদুল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমার কবর শান্তিময় রাখুন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমা...