Skip to main content

একটি উদ্যান আল্লাহকে ভয় পাওয়ার জন্য; আরেকটি প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করার জন্য


মানুষের অন্তরজুড়ে আজ দীর্ঘ আশার একচ্ছত্র রাজত্ব। তুচ্ছ এই দুনিয়াকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার যেন কোনো শেষ নেই। ফলে নির্দ্বিধায় তারা লিপ্ত হচ্ছে হারাম কর্মকাণ্ডে। ইবাদতে তারা চরম উদাসীনতা প্রকাশ করছে। ‘একদিন ভালো হয়ে যাব'—এই অজুহাতে তারা তাওবা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। ক্ষণিকের এই সুখ ও শান্তির পেছনে তারা উন্মাদের মতো ছুটে চলছে। সামনে চিরস্থায়ী জীবনের যে বিভীষিকাময় শাস্তি অপেক্ষা করছে, সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। ভয়হীন নির্বিকার জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। হাসি ও আনন্দই তাদের ধ্যানজ্ঞান—যেন তারা অনন্তকাল ধরে এই দুনিয়াতে বসবাস করবে।

তারা ভুলে বসেছে মহান সালাফের জীবনেতিহাস—যারা মৃত্যু, কবর ও জাহান্নামের ভয়ে সর্বদা অস্থির থাকতেন। তাদের সামনে যখন মৃত্যু ও আখিরাত নিয়ে আলোচনা হতো, তাদের অন্তর নরম হয়ে যেত; মন থেকে অবহেলা ও গাফিলতির চাদর সরে যেত—জেগে উঠত আমলের অদম্য স্পৃহা। ইবনুল মুবারক-এর কথাই ধরুন। তার সামনে যখন 'কিতাবুজ জুহদ' তথা দুনিয়াবিমুখতা নিয়ে আলোচনা করা হতো, তিনি সদ্য জবাইকৃত ষাঁড়ের মতো ছটফট করতেন—কথা বলার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলতেন।'

১. তাজকিরাতুল হুফফাজ : ১/২৭৮।





ভয় কী?

প্রিয় ভাই, ভয় হলো আসন্ন বিপদের জন্য অন্তরে একপ্রকার ব্যথা ও জ্বলন অনুভব করা ।
যার অন্তরে ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার ভয় থাকে, সে বিপদটি কাটিয়ে ওঠার যথাসাধ্য চেষ্টা করে ।
যাদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় আছে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান। ২
কুরতুবি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন, ‘আয়াতটির মর্ম হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে হিসাবের জন্য দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়ে গুনাহ ছেড়ে দেয় ৷
ইবনে কাসির বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়ে, তার ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালার ভয়ে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে এবং রবের ইবাদতে আত্মনিয়োগ করে, সুরভিত জান্নাতই হবে তার ঠিকানা ।

২. সুরা আর-রহমান, ৫৫ : ৪৬।
৩. আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন : ১৭/১৭৬।
৪. তাফসিরু ইবনি কাসির : ৪/৪৬৯ ।


মুজাহিদ ও নাখয়ি বলেন, “যে ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা করেছে; কিন্তু পরক্ষণেই আল্লাহর কথা স্মরণ হওয়ায় তাঁর ভয়ে পিছু হটেছে—এমন ব্যক্তির কথাই
এখানে বলা হয়েছে।'
মুহাম্মাদ বিন আলি তিরমিজি বলেন, ‘একটি উদ্যান আল্লাহকে ভয় পাওয়ার জন্য; আরেকটি প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করার জন্য ।'






ভিডিও টি দেখেতে পারেন  ইনশা আল্লাহ ঃ 





জাজাকুমুল্লাহু খাইরান 



Comments

Popular posts from this blog

  ইসলাম কাকে বলে? ইসলাম একটি আরবী শব্দ। শব্দটির অভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আত্মসমর্পন করা, আনুগত্য করা, শান্তির পথে চলা ও মুসলমান হওয়া। ইসলামের পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো - আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও তার নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পন করা। বিনা দ্বিধায় আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তার দেওয়া বিধান অনুসারে জীবন যাপন করা নামই ইসলাম। যিনি ইসলামের বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করবেন, তিনি মুসলিম বা মুসলমান। ইসলাম ধর্ম আল্লাহপাকের মনোনীত একমাত্র দীন । একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আলোকে একজন মুসলাম জীবন যাপন করতে সক্ষম। ইসলামে রয়েছে সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্থা। এমনকি আরো রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন, ন্যায়নীতি ও সুবিচারর ভিত্তিক শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ গতিশীল সুন্দর সামজ গঠন ও সংরক্ষণে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দীন।’ (সূরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৯) অন্য আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চায়; তা কখনো কবুল করা হবে না।’ (...
  ট্রান্সজেন্ডার; এক অভিশপ্ত সম্প্রদায়    || মুহাম্মদ আব্দুুল্লাহ খান || আদিকাল থেকে পৃথিবীজুড়ে তিন ধরনের মানুষের বসবাস।নারী,পুরুষ ও হিজড়া।সবাই ই আল্লহর সৃষ্টি।আল্লাহ যাকে যেভাবে উত্তম মনে করেছেন তাকে সেভাবে সৃষ্টি করেছেন।মহান আল্লাহ তা'য়ালা কোরআনে কারীমে ইরশাদ করেন:'আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে।'(সুরা:ত্বীন আয়াত:৪) তবে পৃথিবী ব্যাপী 'ট্রান্সজেন্ডার' নামে নতুন এক লিঙ্গের মানুষের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।যদিও তারা নিজেদেরকে চতুর্থ লিঙ্গ তথা 'ট্রান্সজেন্ডার' নামে পরিচয় দিচ্ছে কিন্তু কোরআনের ভাষায় মূলত তারা শয়তানের কাজ করে নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।কোরআনে কারীমে আল্লাহ বলেন 'আর অবশ্যই আমি তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে। আর অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে আর আল্লাহর পরিবর্তে কেউ শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করলে সে স্পষ্টত ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়'।(সুরা:নিসা আয়াত:১১৯) ট্রান্সজেন্ডার বলতে কি বুঝায়: রূপান্তরিত লিঙ্গ-এর ব্যক্তিবর্গ (ইংরেজি: Transgender ট্রান্সজেন্ডার) হল সেসব ব্যক্তি যাদের মানসিক লিঙ্গবোধ জন্মগত লি...
  রমজান মাসের ফজিলত ও মর্যাদা রমজান মাস। আরবি মাসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। দুনিয়ার কোনো সম্পদের সঙ্গে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রমজানের আগমনে বিশ্বনবি অনেক আনন্দিত হতেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্যে এভাবে ঘোষণা দিতেন বিশ্বনবি সাল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- أتاكم رمضان شهر مبارك ‘তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’ তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের ঘোষণা দিয়ে এ মাসের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করতেন। আর তা ছিল এমন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ (বাধ্যতামূলক) করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের (নবি-রাসুলের উম্মতের) ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) রমজান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা ১. ফরজ রোজা পালন ২. কুরআন নাজিল ৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার মাস ৪. জাহান্নামের দরজা বন্ধ ৫. শয়তানকে শৃঙ্খাবদ্ধ করা ৬. লাইলাতুল কদর পাওয়া ৭. দোয়া কবুল হওয়া ৮. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ৯. ক্ষমা পাওয়া ১০. সৎ কাজের প্রতিদান বহুগুণে বেড়ে যাওয়া ১১. হজের সাওয়াব পাওয়া ১২. রোজাদারে...